মূল অংশে যান
Gari Ghora
শুরু থেকে শেষ

একটি গাড়িঘোড়া যাত্রা আসলে যেভাবে চলে

একই বুকিং দুই দিক থেকে — আর প্রস্তাব গ্রহণ করা থেকে ভাড়া হাতে তুলে দেওয়া পর্যন্ত মাঝখানে যা যা ঘটে।

কীভাবে কাজ করে

যে পাশেই থাকুন, চারটি ধাপ

একই বুকিং, দুই দিক থেকে দেখা। শুধু ফোনে কথা বলে কিছু হয় না — প্রতিটি প্রস্তাব, বুকিং আর যাত্রা শেষের হিসাব অ্যাপে লেখা থাকে।

  1. ধাপ ১

    খুঁজুন বা রিকোয়েস্ট দিন

    রেন্টাল কার না রিটার্ন কার বেছে নিয়ে কোথা থেকে, কোথায়, কোন দিন আর কখন লিখুন। গাড়ির ধরন আর দরকারি নোট যোগ করুন — মালপত্র, এসি, বাচ্চার আসন।

  2. ধাপ ২

    প্রস্তাব মিলিয়ে দেখুন

    যাচাই করা চালকেরা ভাড়া জানাবেন। ইচ্ছে হলে একবার পাল্টা প্রস্তাব দিন; দফা সীমিত, তাই দরকষাকষিতে আটকে থাকতে হয় না।

  3. ধাপ ৩

    বুক করে রওনা দিন

    প্রস্তাব গ্রহণ করলেই বুকিং নিশ্চিত। চালক, গাড়ি আর ওঠার জায়গা দেখতে পাবেন, আর যাত্রার দিন গাড়িটি কোথায় আছে তা-ও।

  4. ধাপ ৪

    যাত্রা শেষে ভাড়া, তারপর রেটিং

    যাত্রা শেষ হলে ঠিক করা ভাড়াটা নগদে চালকের হাতে দিন — তার আগে নয়। এরপর দুজনেই দুজনকে রেটিং দিন।

বুকিংয়ের পেছনে

প্রতিটি ধাপে প্ল্যাটফর্ম কী করে

নিচের প্রতিটি ধাপ লেখা থাকে — এ কারণেই নগদে চোকানো যাত্রার হিসাবও দুই পক্ষের কাছে স্পষ্ট থাকে।

  • প্রস্তাব

    চালক আপনার যাত্রার জন্য একটি ভাড়া প্রস্তাব করেন, কিংবা তাঁর পোস্ট করা ফিরতি ট্রিপে আপনি ভাড়া প্রস্তাব করেন। পাল্টা প্রস্তাব দু-এক দফাতেই সীমিত।
  • বুকিং

    প্রস্তাব গ্রহণ করলেই বুকিং তৈরি হয় আর ভাড়া পাকা হয়ে যায়। একটি যাত্রার বিপরীতে একটির বেশি প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে না — সার্ভারই তা আটকে দেয়।
  • নিশ্চিতকরণ

    একজন গাড়ি ভাই দায়িত্ব পান, দুই পক্ষকে ফোন করেন, ওঠার জায়গা আর সময় নিশ্চিত করেন, আর চালকের জানা দরকার এমন কিছু থাকলে লিখে রাখেন।
  • যাত্রা

    চালক অ্যাপে ট্রিপ শুরু করেন। যাত্রা চলাকালে গাড়ি কোথায় আছে দেখতে পাবেন, আর এক টোকাতেই সহায়তা পাবেন।
  • ভাড়া পরিশোধ

    অ্যাপে যাত্রা শেষ করা হয়, আর আপনি ঠিক করা ভাড়াটা নগদে দেন। প্ল্যাটফর্মের কমিশন যায় চালকের হিসাবে, আপনার ভাড়ার সঙ্গে যোগ হয় না।
  • রেটিং

    দুই পক্ষ একবার করে রেটিং দেন। শুধু সম্পন্ন যাত্রারই রিভিউ হয়, তাই রেটিং সব সময় সত্যিকারের একটি যাত্রাকেই বোঝায়।
কোন সেবাটি নেবেন

রেন্টাল কার, না রিটার্ন কার?

দুটিতেই একই অ্যাকাউন্ট, একই যাচাই করা চালক আর গোটা গাড়ির বুকিং। পার্থক্য কেবল এটুকু — যাত্রাটা শুরুতে কার ছিল।

রেন্টাল কার নিন যখন…

  • দিন-তারিখ আর সময় একেবারে নির্দিষ্ট।
  • নিজের শহর থেকে বাইরে যাচ্ছেন, ফিরছেন না।
  • গাড়িটি অপেক্ষা করবে, কিংবা কয়েক জায়গায় থামবে।
  • আপনার পথে কোনো ফিরতি ট্রিপ পোস্ট হয়নি।

রিটার্ন কার নিন যখন…

  • সময় নিয়ে কিছুটা ছাড় দেওয়া যায়।
  • ব্যস্ত আন্তঃজেলা পথ ধরে ফিরছেন।
  • একই গাড়ি অনেক কম খরচে চান।
  • রিকোয়েস্ট দিয়ে প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করতে আপত্তি নেই।
যে হিসাবটা কেউ করে না

প্রতিটি দূরের যাত্রার অর্ধেকটাই অপচয়

আন্তঃজেলা প্রতিটি ভাড়ার দুটি পথ — যাওয়া আর ফেরা। যাত্রী থাকেন কেবল একটিতে। খালি ফেরার পথে চালকের তেল পোড়ে, সময় যায়, অথচ আয় হয় না; আর কম ভাড়ায় যে যাত্রাটা কেউ পেতে পারতেন, সেটাও হয় না।

প্রচলিত ভাড়া

চালক ফেরেন খালি গাড়ি নিয়ে

ঢাকাকুমিল্লা
যাত্রী আছেন৳৩,২০০
কুমিল্লাঢাকা
কেউ নেইআয় ৳০

ফেরার পথের তেল আর সময়ের খরচটা শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ভাড়ার ভেতরেই ঢুকে যায়। লাভ কারও হয় না।

গাড়িঘোড়ায়

ফেরার পথটাই হয়ে যায় একটা যাত্রা

ঢাকাকুমিল্লা
যাত্রী আছেন৳৩,২০০
কুমিল্লাঢাকা
রিটার্ন কার বুক হয়েছেবাড়তি ৳১,১০০

চালক খালি পথটা রিটার্ন কার ট্রিপ হিসেবে পোস্ট করেন। একই দিকে যাচ্ছেন এমন কেউ সাধারণ ভাড়ার ভগ্নাংশে গোটা গাড়িটা বুক করে নেন।

ভাড়াগুলো বোঝানোর জন্য দেওয়া উদাহরণ। প্রতিটি যাত্রার ভাড়া ঠিক করেন চালক।

গাড়িটা তো ওই পথেই যাচ্ছে। খালি গাড়ি ফেরার ভাড়া দিয়ে লাভ কী?

পুরো প্রক্রিয়াটা এটুকুই

আগাম টাকা নেই, কার্ডের তথ্য নেই, পথের শেষে হঠাৎ বাড়তি ভাড়াও নেই।