মূল অংশে যান
Gari Ghora
আমরা কারা

গাড়িটা তো ওই পথেই যাচ্ছে।

গাড়িঘোড়া — বাংলাদেশের একটি গাড়ি ভাড়ার প্ল্যাটফর্ম, যার পুরো ভাবনাটা একটি পর্যবেক্ষণ ঘিরে: আন্তঃজেলা গাড়িগুলো কর্মদিনের প্রায় অর্ধেকটা সময় খালি অবস্থায় ফেরে।

কেন আমরা আছি

অর্ধেক পথ, অথচ কোনো আয় নেই

ঢাকা থেকে কুমিল্লা গাড়ি ভাড়া করুন — চালক আপনাকে পৌঁছে দিয়ে নামিয়ে দেবেন, তারপর একা গাড়ি নিয়ে ফিরবেন। ফেরার পথের তেল, সময় আর গাড়ির ক্ষয় — সবই সত্যিকারের খরচ, আর সেগুলো শেষ পর্যন্ত সবার ভাড়ার ভেতরেই ঢুকে যায়।

ওদিকে কুমিল্লার কেউ সেই সন্ধ্যায়ই ঢাকায় আসতে চাইছেন, আর ঠিক উল্টো দিকে একই পথটুকু পাড়ি দিতে পুরো ভাড়ায় আরেকটি গাড়ি নিচ্ছেন।

এই দুজনের তো একই গাড়িতে থাকার কথা। পুরো ভাবনাটা এটুকুই। গাড়িঘোড়ায় চালক খালি পথটা রিটার্ন কার ট্রিপ হিসেবে পোস্ট করতে পারেন, আর যাত্রী সেটি নতুন ভাড়ার ভগ্নাংশে বুক করতে পারেন — চালক এক যাত্রায় দুবার আয় করেন, যাত্রী কম খরচে যান, আর একটি গাড়ি কম খালি চলে।

রেন্টাল কার পাশেই থাকে, কারণ দুটি একে অন্যকে টানে: আজকের রেন্টালই আগামীকালের ফিরতি ট্রিপ।

আমরা যা বানাচ্ছি

বাংলাদেশে আন্তঃজেলা গাড়ি ভ্রমণের একটি প্ল্যাটফর্ম — দুটি পরস্পরসংযুক্ত সেবা, যাচাই করা চালক, অ্যাপে ঠিক হওয়া ভাড়া আর প্রতিটি বুকিংয়ে মানুষের একটি দল।

যা বানাচ্ছি না

বাস নয়। অচেনা মানুষ মিলে গাড়ি ভাগ করে নেওয়ার রাইড-শেয়ার নয়। পেমেন্ট কোম্পানিও নয়।

বুকিং হয় গোটা গাড়ির, আর টাকা যায় সরাসরি যাত্রীর কাছ থেকে চালকের হাতে।

যে হিসাবটা কেউ করে না

প্রতিটি দূরের যাত্রার অর্ধেকটাই অপচয়

আন্তঃজেলা প্রতিটি ভাড়ার দুটি পথ — যাওয়া আর ফেরা। যাত্রী থাকেন কেবল একটিতে। খালি ফেরার পথে চালকের তেল পোড়ে, সময় যায়, অথচ আয় হয় না; আর কম ভাড়ায় যে যাত্রাটা কেউ পেতে পারতেন, সেটাও হয় না।

প্রচলিত ভাড়া

চালক ফেরেন খালি গাড়ি নিয়ে

ঢাকাকুমিল্লা
যাত্রী আছেন৳৩,২০০
কুমিল্লাঢাকা
কেউ নেইআয় ৳০

ফেরার পথের তেল আর সময়ের খরচটা শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ভাড়ার ভেতরেই ঢুকে যায়। লাভ কারও হয় না।

গাড়িঘোড়ায়

ফেরার পথটাই হয়ে যায় একটা যাত্রা

ঢাকাকুমিল্লা
যাত্রী আছেন৳৩,২০০
কুমিল্লাঢাকা
রিটার্ন কার বুক হয়েছেবাড়তি ৳১,১০০

চালক খালি পথটা রিটার্ন কার ট্রিপ হিসেবে পোস্ট করেন। একই দিকে যাচ্ছেন এমন কেউ সাধারণ ভাড়ার ভগ্নাংশে গোটা গাড়িটা বুক করে নেন।

ভাড়াগুলো বোঝানোর জন্য দেওয়া উদাহরণ। প্রতিটি যাত্রার ভাড়া ঠিক করেন চালক।

গাড়িটা তো ওই পথেই যাচ্ছে। খালি গাড়ি ফেরার ভাড়া দিয়ে লাভ কী?

আমরা যেভাবে কাজ করি

যে পাঁচটি কথায় বারবার ফিরে আসি

  • আগে খালি পথটা সারাই

    প্ল্যাটফর্মের সবকিছুই একটি অপচয়ের দিকে তাকিয়ে: কাউকে ছাড়া বাড়ি ফিরতে থাকা একটা গাড়ি। রিটার্ন কারই মূল সেবা; বাকিটা তাকে সাহায্য করে।
  • দুই পক্ষকেই ঠকতে দেব না

    চালকের আয় আগের চেয়ে বাড়া চাই, যাত্রীর খরচ কমা চাই। যে বদল কেবল এক পক্ষের উপকার করে, সেটা ভালো বদল নয়।
  • টাকায় এখনই হাত দেব না

    যাত্রী সরাসরি নগদে চালককে দেন। আমরা যাত্রাটি লিখে রাখি আর কমিশনটা চালকের হিসাবে তুলি — তাঁর আয়ের মাঝখানে বসি না।
  • মাঝখানে একজন মানুষ থাকুক

    প্রতিটি বুকিংয়ে একজন গাড়ি ভাই দুই পক্ষকে ফোন করেন। সফটওয়্যার যাত্রা মেলায়; মানুষটি নিশ্চিত করেন যে সেটি সত্যিই হচ্ছে।
  • ছোট পরিসরে, আসল রাস্তায় শুরু

    দুটি সেবা, সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তঃজেলা পথ, আর কেবল গোটা গাড়ির বুকিং। সব জায়গায় পাতলা উপস্থিতির চেয়ে কয়েকটি পথে গভীর উপস্থিতি ভালো।
কোথায় চলছি

বাংলাদেশ — শুরুটা সবচেয়ে ব্যস্ত পথ দিয়ে

ঢাকা আর সেখান থেকে বেরোনো পথগুলো — কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট আর বিমানবন্দরের রাস্তা — এখানেই খালি ফেরার ঘটনা সবচেয়ে বেশি, তাই শুরুটা এখান থেকেই।

আপনিও সঙ্গে আসুন

যাত্রা করুন, আমাদের সঙ্গে গাড়ি চালান, কিংবা দলটিতে যোগ দিন।